ফলতায় পুনর্নির্বাচনে সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড়, গরম উপেক্ষা করে ভোটমুখী জনতা! নিখোঁজ জাহাঙ্গির, থমথমে তৃণমূল শিবির!
বেঙ্গল ফোকাস: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্যাচপ্যাচে অস্বস্তিকর আবহাওয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতর আগেই সতর্ক করেছিল, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভ্যাপসা গরম এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকবে। বৃহস্পতিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে রাজনৈতিক উত্তাপের সামনে যেন হার মেনেছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। হাঁসফাঁস গরমকে উপেক্ষা করেই সকাল সকাল ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা বাজতেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। আগের দফার অশান্তি এবং বিতর্ক কাটিয়ে এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথের বাইরে দেখা গিয়েছে দীর্ঘ ও সুশৃঙ্খল ভোটার লাইন। উৎসবের মেজাজে, নির্ভয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন।
তবে বাইরে যখন ভোট উৎসবের আবহ, তখন ফলতার রাজনৈতিক অন্দরমহলে যেন সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। খাস ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির চারপাশে নেমে এসেছে অদ্ভুত নীরবতা। বুথ থেকে অল্প দূরত্বে থাকা তাঁর বাড়ির সদর দরজায় ঝুলছে তালা। ভোট শুরুর পর থেকে এলাকায় খোদ প্রার্থীর কোনও উপস্থিতিই লক্ষ্য করা যায়নি। শুধু প্রার্থীর অনুপস্থিতিই নয়, রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা। একাধিক বুথে সকাল থেকে দেখা যায়নি তৃণমূলের কোনও বুথ এজেন্টকে। এমনকি জাহাঙ্গির খানের বাড়ির কাছের দু’টি বুথেও জোড়াফুল শিবিরের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন জোর জল্পনা— তবে কি কার্যত ফাঁকা মাঠে খেলতে নামল বিজেপি? (Falta Assembly Election Repoll)
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে তাঁরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের দাবি, ফলতার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ও তাঁর অনুগামীরা সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে যেতেই দিত না। (Bengal Political Update) এবারের পুনর্নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। (Falta Repoll 2026)
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিতর্কের মাঝেও তৃণমূল কংগ্রেস এবারও জাহাঙ্গির খানের ওপর ভরসা রেখেই তাঁকে প্রার্থী করেছিল। কিন্তু গত দফার ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। আর সেই পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আচমকাই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির খান। তবে নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএমে তাঁর নাম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক বহাল রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ময়দানে নেই প্রার্থী, নেই বুথ এজেন্টও। ফলে ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ অন্য খাতে বইছে। এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ফলতার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত ফলতার রাশ কার হাতে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। (Falta Voting News)
