কলকাতায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, তিন এলাকায় ভাঙা শুরু পুরসভার
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
বেঙ্গল ফোকাস: অবৈধ নির্মাণ নিয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার কাজ জোরদার হয়েছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই রবিবার সকালে তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটা— এই তিন এলাকায় একাধিক অবৈধ বহুতল ভাঙার কাজ শুরু করে পুরসভা।
পুরসভার এই পদক্ষেপকে ঘিরে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বুলডোজ়ারও। সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে টানটান উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে, সেগুলির সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। বেলেঘাটার একটি নির্মাণের সঙ্গে তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম জড়িয়েছে। অন্য দুই ক্ষেত্রেও স্থানীয় কাউন্সিলর বা বরো চেয়ারম্যানদের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও অভিযুক্তরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ, পুরসভার অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বহুতলগুলির উচ্চতা বাড়ানো হয়েছিল। কোথাও পাঁচতলা, কোথাও ছ’তলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়ে যায়। আবার কিছু জায়গায় একাধিক ব্লকে নির্মাণকাজও চলছিল বলে জানা গিয়েছে। ডিসেম্বর মাসেই কিছু নির্মাণকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এতদিন পরেও কীভাবে কাজ চলতে থাকল? পুরসভা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, বৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। শুধুমাত্র যেসব নির্মাণ আইন ভেঙে তৈরি হয়েছে, সেগুলির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতেও এই অভিযান চলবে এবং কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ছাড় দেওয়া হবে না।
কসবায় ভাঙার কাজ চলাকালীন এলাকায় পৌঁছন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি পুলিশের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে দায়িত্বে থাকা পুর আধিকারিক ও কর্মীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও পরোক্ষে নিশানা করেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর প্রশ্ন, এত বড় বড় অবৈধ নির্মাণ তৈরি হওয়ার সময় পুরসভার নজরে এল না কেন? কারা এর পিছনে ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
এই অভিযানের ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেআইনি নির্মাণ চললেও এবার প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র বেছে বেছে কিছু জায়গায় অভিযান চালিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন।
