আরজি কর-কাণ্ডে নামে জড়ানো অভীক দে ফের তদন্তের মুখে, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
Bengal Focus: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুকে ঘিরে যে বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার পর থেকেই বারবার সামনে উঠে এসেছিল জুনিয়র চিকিৎসক অভীক দে-র নাম। সরকারি হাসপাতালগুলিতে তথাকথিত ‘দাদাগিরি’, প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এবার সেই অভীক দে-র বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য ভবন।
সূত্রের খবর, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও অভীক পরে এসএসকেএম হাসপাতালে জেনারেল সার্জারি বিভাগের প্রথম বর্ষের পিজিটি হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু আরজি কর-কাণ্ডের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন যদিও সেই হাসপাতালের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও সম্পর্ক ছিল না। কেন তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বহু চিকিৎসক ও সংগঠন। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। শুধু তাই নয়, এসএসকেএম হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ, ওটি, ওপিডি এমনকি হস্টেলেও তাঁর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলও তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়। যদিও কয়েক মাস পর সেই কড়াকড়ির কিছু অংশ শিথিল করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
তবে এবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের একে একে পুরনো বিতর্কিত ফাইল খোলা শুরু হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার আগের প্রশাসনের সময়কার একাধিক অভিযোগ, দুর্নীতি, ভোট পরবর্তী হিংসা এবং অভয়া-কাণ্ড সংক্রান্ত বিষয় পুনরায় খতিয়ে দেখছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অভীক দে-র বিরুদ্ধেও নতুন করে তদন্ত শুরু হলো।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, শুধু বিভাগীয় তদন্তই নয়, অভীক কীভাবে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটিও আলাদা করে খতিয়ে দেখা হবে। এই বিষয়ে পৃথক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম’। সংগঠনের দাবি, আরজি কর-কাণ্ডে যাঁদের নাম জড়িয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও তুলেছে তারা। রাজনৈতিক ও চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালগুলিতে প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে অভিযোগ উঠছিল, এবার সেগুলির উপর আরও কড়া নজরদারি শুরু হতে পারে।
