কুণাল ঘোষ কে ঘিরে ধরে চোর স্লোগান এবার বেলেঘাটার মানুষের। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি নিয়ে কি বললেন কুণাল ঘোষ দেখুন। Bengal Focus

Bengal Focus
By -
0

কুণাল ঘোষকে ঘিরে রাতের বিক্ষোভে উত্তেজনা, ঘর না-পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ বাসিন্দাদের

TMC নেতা কুণাল ঘোষ কে দেখে চোর স্লোগান
বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ বেলেঘাটার মানুষের


বেঙ্গল ফোকাস: রবিবার গভীর রাতে উত্তর কলকাতার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিবেশ। তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগের নিশানায় ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর এবং তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বহুদিন আগে এলাকার পুরনো বসতি ভেঙে নতুন পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিধায়ক কুণাল ঘোষ, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়, পুরনো ঘর ছেড়ে দিলে একই জায়গায় উন্নত মানের আবাসন তৈরি হবে। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর যে ঘরগুলি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নতুন করে তৈরি হওয়া ঘরগুলি অত্যন্ত ছোট এবং টিনের চালযুক্ত। তাঁদের বক্তব্য, পরিবারের সঙ্গে সেখানে স্বাভাবিক ভাবে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের কেউ কেউ সেই ঘরকে “পায়রার খোপ”-এর সঙ্গেও তুলনা করেন। অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি ছিল পাকা ও উন্নত আবাসনের, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়। পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় পুরনো ব্যারাক সংস্কারের কাজ চলছে এবং কেএমডিএর তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে আবাসন তৈরি করা হচ্ছে। দলের বক্তব্য, অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই ঘর পেয়েছে, বাকি পরিবারগুলির কাজও চলছে। খুব শীঘ্রই সকলের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমান সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, আগের সরকারের দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাস্তবে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়াতেই বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

বিক্ষোভ নিয়ে কুণাল ঘোষও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁর দাবি, খবর পাওয়ার পর তিনি নিজেই রাতেই এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, সমস্যার সমাধানে তিনি সহযোগিতা করবেন। তবে তাঁর অভিযোগ, ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। একদিকে আবাসন নিয়ে ক্ষোভ, অন্যদিকে রাজনৈতিক পাল্টা অভিযোগ— সব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার এই ঘটনা নতুন করে রাজ্যের আগের সরকারের নগর উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।


Tags:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)